black and white bed linen

সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর বা আল্লাহ্ বলতে কি সত্যিই কিছু আছে?

এটি একটি অত্যন্ত পুরনো একটি প্রশ্ন এবং কেন আমাদের ঈশ্বরে বিশ্বাস করাটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে একটি গভীর চিন্তামূলক আলোচনা করা হয়েছে। আশা করছি যে, লেখাটি আপনাকে অনেক সমৃদ্ধ করবে। দয়া করে সাথেই থাকবেন।

সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর বা আল্লাহ বলতে কি সত্যিই কিছু আছে?

আপনি এখন যে ডিভাইসে এই লেখাটি পড়ছেন, সেটি কি নিজে নিজে তৈরি হয়েছে?

আপনি হয়তো বলবেন, "এটা কেমন প্রশ্ন? অবশ্যই কেউ তৈরি করেছে। ইঞ্জিনিয়াররা ডিজাইন করেছে, ফ্যাক্টরিতে তৈরি হয়েছে, সফটওয়্যার ডেভেলপাররা প্রোগ্রাম লিখেছে।"

ঠিক। একটি সাধারণ মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার নিজে নিজে তৈরি হতে পারে না। একটি ছোট্ট ঘড়ি নিজে নিজে তৈরি হতে পারে না। একটি সুই পর্যন্ত নিজে নিজে তৈরি হতে পারে না।

কিন্তু তাহলে এই সুবিশাল মহাবিশ্ব, এই পৃথিবী, এই প্রাণের বিস্ময়কর জগৎ, আপনার শরীরের ৩৭ ট্রিলিয়ন কোষ, আপনার চোখের রেটিনা যা প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিলিয়ন রঙ আলাদা করতে পারে, আপনার মস্তিষ্কের ১০০ বিলিয়ন নিউরন যা মহাবিশ্বের সবচেয়ে জটিল বস্তু, এই সবকিছু কি নিজে নিজে, কোনো কারণ ছাড়া, কোনো বুদ্ধিমত্তা ছাড়া, দুর্ঘটনাক্রমে তৈরি হয়ে গেছে?

a person standing in front of a white building
a person standing in front of a white building

এই প্রশ্নটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো, সবচেয়ে গভীর এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এবং এই প্রশ্নের উত্তর আপনার জীবনের সবকিছু পরিবর্তন করে দিতে পারে।

আজকের এই লেখায় আমরা বিজ্ঞান, দর্শন, গণিত, ইতিহাস, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজব। এবং শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন: সৃষ্টিকর্তা বলে কি সত্যিই কেউ আছেন?

চলুন শুরু করি:-

প্রথম অধ্যায়: মহাবিশ্বের শুরু এবং বিগ ব্যাং এর রহস্য

১৯২৯ সালে আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার করলেন। তিনি দেখলেন যে মহাবিশ্বের প্রতিটি গ্যালাক্সি একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এর মানে হলো মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে।

এখন যদি আমরা সময়ের ফিতাকে উল্টোদিকে ঘোরাই, তাহলে কী হবে? সব গ্যালাক্সি একে অপরের কাছে আসতে থাকবে, আরও কাছে, আরও কাছে, যতক্ষণ না সবকিছু একটি অতি ক্ষুদ্র, অতি ঘন, অতি উত্তপ্ত বিন্দুতে পৌঁছায়। এই বিন্দুটিকে বিজ্ঞানীরা বলেন "সিঙ্গুলারিটি"। এবং এই বিন্দু থেকে মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছিল যাকে আমরা বলি "বিগ ব্যাং"।

আধুনিক বিজ্ঞান বলছে মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর, এবং মহাবিশ্বের একটি শুরু আছে।

এখন এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আসে।

যদি মহাবিশ্বের একটি শুরু থাকে, তাহলে কে বা কী সেই শুরুর কারণ?

বিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি হলো "কার্যকারণ সূত্র" (Law of Causality)। এই সূত্র বলে: প্রতিটি ঘটনার একটি কারণ আছে। কোনো কিছুই কারণ ছাড়া ঘটে না।

যদি আপনি রাতে ঘুমিয়ে থাকেন এবং সকালে উঠে দেখেন আপনার ঘরের মেঝেতে একটি কেক রাখা আছে, আপনি কি বলবেন "কেকটি নিজে নিজে তৈরি হয়েছে"? অবশ্যই না। আপনি ভাববেন কেউ রাতে এসে রেখে গেছে।

তাহলে এই সুবিশাল মহাবিশ্ব, যেখানে ২ ট্রিলিয়নেরও বেশি গ্যালাক্সি আছে, প্রতিটি গ্যালাক্সিতে কোটি কোটি তারা আছে, এই সবকিছু কি কারণ ছাড়া নিজে নিজে শুরু হয়ে গেছে?

বিখ্যাত নাস্তিক দার্শনিক অ্যান্টনি ফ্লু, যিনি ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিলেন, তিনি ২০০৪ সালে ঘোষণা করলেন যে তিনি তাঁর মত পরিবর্তন করেছেন। তিনি বললেন: "বিজ্ঞান আমাকে বাধ্য করেছে স্বীকার করতে যে মহাবিশ্বের পেছনে একটি বুদ্ধিমান শক্তি আছে। কারণ শূন্য থেকে কিছু আসতে পারে না।" তিনি তাঁর "There Is a God" বইতে এই বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন।

a computer generated image of a space station
a computer generated image of a space station

দ্বিতীয় অধ্যায়: মহাবিশ্বের সূক্ষ্ম সমন্বয়

এখন একটি আরও চমকপ্রদ বিষয় দেখি। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে মহাবিশ্বে কিছু মৌলিক ধ্রুবক (constants) আছে যেগুলোর মান যদি সামান্যতম পরিবর্তন হতো, তাহলে মহাবিশ্ব, তারা, গ্রহ এবং জীবনের অস্তিত্ব সম্ভব হতো না।

মাধ্যাকর্ষণ শক্তির উদাহরণ: মাধ্যাকর্ষণ শক্তি যদি বর্তমানের চেয়ে ১০ এর ঘাত ৪০ ভাগের ১ ভাগ বেশি হতো, তাহলে মহাবিশ্বে শুধু বামন তারা থাকত এবং জীবন সম্ভব হতো না। আর যদি একই পরিমাণ কম হতো, তাহলে শুধু দৈত্যাকার তারা থাকত এবং সেগুলো এত দ্রুত পুড়ে যেত যে জীবন বিকাশের সময় পেত না।

কার্বন পরমাণুর উদাহরণ: জীবনের জন্য কার্বন অপরিহার্য। কার্বন তৈরি হয় তারার ভেতরে নিউক্লিয়ার ফিউশনের মাধ্যমে। ব্রিটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রেড হয়েল আবিষ্কার করলেন যে কার্বন তৈরি হওয়ার জন্য নিউক্লিয়ার শক্তির একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় "রেজোন্যান্স" দরকার। এই রেজোন্যান্সের মান যদি ০.৫% এর বেশি বা কম হতো, তাহলে কার্বন তৈরি হতো না এবং জীবন অসম্ভব হতো।

ফ্রেড হয়েল নিজে নাস্তিক ছিলেন। কিন্তু এই আবিষ্কারের পর তিনি বলেছিলেন: "এই তথ্যগুলো দেখে মনে হয় একটি অতি বুদ্ধিমান সত্তা পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে সাজিয়েছে।"

তিনি তাঁর "The Universe: Past and Present Reflections" প্রবন্ধে (Annual Review of Astronomy and Astrophysics, 1982) লিখেছেন: "একটি সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যাখ্যা হলো যে একটি অতি বুদ্ধিমত্তা পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞানের সাথে খেলা করেছে। এবং প্রকৃতিতে কথা বলার মতো কোনো অন্ধ শক্তি নেই।"

পানির অনন্য বৈশিষ্ট্য: পানি হলো পৃথিবীর একমাত্র পদার্থ যা জমাট বাঁধলে (বরফ হলে) হালকা হয়ে ওপরে ভাসে। অন্য সব পদার্থ জমাট বাঁধলে ভারী হয়ে ডুবে যায়। যদি বরফও ডুবে যেত, তাহলে শীতকালে নদী ও সমুদ্রের তলদেশে বরফ জমত এবং সব জলজ প্রাণী মারা যেত। পৃথিবীতে জীবন ধ্বংস হয়ে যেত।

এটি কি দুর্ঘটনা? নাকি পরিকল্পনা?

পৃথিবীর অবস্থান: পৃথিবী সূর্য থেকে ঠিক ১৪ কোটি ৯৬ লক্ষ কিলোমিটার দূরে আছে। যদি ৫% কাছে হতো, পৃথিবী শুক্র গ্রহের মতো জলন্ত নরক হতো। যদি ৫% দূরে হতো, পৃথিবী মঙ্গল গ্রহের মতো হিমশীতল মরুভূমি হতো।

পৃথিবীর অক্ষীয় কোণ: পৃথিবী তার অক্ষের সাথে ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে আছে। এই হেলে থাকার কারণেই ঋতু পরিবর্তন হয়, ফসল ফলে, জীবন টিকে থাকে। যদি এই কোণ ০ ডিগ্রি হতো, কোনো ঋতু থাকত না। যদি ৪৫ ডিগ্রি হতো, গ্রীষ্ম ও শীত এত তীব্র হতো যে জীবন অসম্ভব হতো।

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী আর্নো পেনজিয়াস, যিনি কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন আবিষ্কার করে বিগ ব্যাং তত্ত্ব প্রমাণ করেছিলেন, তিনি বলেছেন: "জ্যোতির্বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ তথ্যগুলো আমাদের এটাই বলছে যে, মহাবিশ্ব শূন্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে; আর এর উৎপত্তির প্রেক্ষাপট ঠিক তেমনই, যা আমরা বাইবেলের আদিপুস্তকের প্রথম আয়াতাংশটি সত্য হলে দেখতে পেতাম।" (New York Times, 12 March 1978)

তৃতীয় অধ্যায়: ডিএনএ এবং তথ্যের রহস্য

এখন জীববিজ্ঞানের দিকে তাকাই।

আপনার শরীরের প্রতিটি কোষে ডিএনএ (DNA) আছে। ডিএনএ হলো একটি অবিশ্বাস্যভাবে জটিল তথ্যভান্ডার। একটি মাত্র মানব কোষের ডিএনএতে প্রায় ৩.২ বিলিয়ন "অক্ষর" (base pairs) আছে। যদি এই তথ্য বই আকারে লেখা হতো, তাহলে ৫০০ পৃষ্ঠার ১,০০০ টিরও বেশি বই লাগত।

এখন প্রশ্ন হলো: তথ্য কি নিজে নিজে তৈরি হয়?

আপনি যদি সমুদ্রের তীরে হাঁটতে গিয়ে বালিতে লেখা দেখেন "আমি তোমাকে ভালোবাসি," আপনি কি বলবেন "ঢেউ আর বাতাস এটি লিখেছে"? অবশ্যই না। আপনি জানবেন কোনো বুদ্ধিমান সত্তা এটি লিখেছে।

তাহলে ডিএনএতে যে ৩.২ বিলিয়ন অক্ষরের তথ্য আছে, যা একটি অবিশ্বাস্যভাবে জটিল "প্রোগ্রামিং কোড," এটি কি নিজে নিজে লেখা হয়েছে?

বিল গেটস, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা, যিনি নিজে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর জনক, তিনি তাঁর "The Road Ahead" বইতে লিখেছেন: "ডিএনএ হলো একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামের মতো, কিন্তু আমরা যে কোনো সফটওয়্যার তৈরি করেছি তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি জটিল।"

যদি একটি সাধারণ কম্পিউটার প্রোগ্রাম লিখতে বুদ্ধিমান প্রোগ্রামার লাগে, তাহলে ডিএনএর মতো অতি জটিল "প্রোগ্রাম" কি বুদ্ধিমান স্রষ্টা ছাড়া সম্ভব?

ফ্রান্সিস কলিন্স, যিনি হিউম্যান জিনোম প্রজেক্টের প্রধান ছিলেন এবং যিনি মানব ডিএনএ'র সম্পূর্ণ মানচিত্র তৈরি করেছেন, তিনি বলেছেন: "ডিএনএ হলো আল্লাহর ভাষা।" তিনি তাঁর "The Language of God" বইতে লিখেছেন কিভাবে বিজ্ঞান তাঁকে ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে।

a close up of a double strand of gold glitter
a close up of a double strand of gold glitter

চতুর্থ অধ্যায়: দৈনন্দিন জীবনের সাক্ষ্য

এখন বিজ্ঞানের বাইরে এসে দৈনন্দিন জীবনের দিকে তাকাই।

বিবেকের সাক্ষ্য: আপনি যখন কোনো অন্যায় করেন, তখন ভেতরে একটি অস্বস্তি অনুভব করেন। কেউ না দেখলেও, কেউ না জানলেও, আপনার ভেতরে কিছু একটা বলে "এটি ঠিক হয়নি।" এই ভেতরের কণ্ঠস্বরকে আমরা বলি "বিবেক" বা "দিল।"

কিন্তু এই বিবেক কোথা থেকে এলো? বিবর্তনবাদ বলে "যোগ্যতমরাই টিকে থাকে।" কিন্তু বিবেক তো প্রায়ই আমাদের নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে। একজন মানুষ নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে একজন অপরিচিত মানুষকে বাঁচায়। বিবর্তনবাদ এটি ব্যাখ্যা করতে পারে না। কিন্তু যদি আমাদের একজন সৃষ্টিকর্তা থাকেন যিনি আমাদের মধ্যে নৈতিকতার বীজ বপন করেছেন, তাহলে এটি পুরোপুরি ব্যাখ্যা হয়ে যায়।

সৌন্দর্যবোধের সাক্ষ্য: আপনি কি কখনো সূর্যাস্ত দেখে মুগ্ধ হয়েছেন? সমুদ্রের ঢেউ দেখে অবাক হয়েছেন? একটি ফুলের সৌন্দর্যে হারিয়ে গেছেন? একটি শিশুর হাসি দেখে হৃদয় ভরে গেছে?

এই সৌন্দর্যবোধ কোথা থেকে এলো? বিবর্তনবাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সৌন্দর্যবোধের কোনো "বেঁচে থাকার সুবিধা" (survival advantage) নেই। সূর্যাস্ত দেখে মুগ্ধ হওয়া আপনাকে শিকার ধরতে বা শত্রু থেকে পালাতে সাহায্য করে না। তাহলে কেন এই বোধ আমাদের মধ্যে আছে?

কারণ আমাদের সৃষ্টিকর্তা সুন্দর এবং তিনি আমাদের মধ্যে সৌন্দর্য উপভোগ করার ক্ষমতা দিয়েছেন।

ভালোবাসার সাক্ষ্য: একজন মা তাঁর সন্তানের জন্য নিজের জীবন দিতে পারেন। একজন স্বামী তাঁর স্ত্রীর জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে পারেন। এই ভালোবাসা কি শুধু রাসায়নিক বিক্রিয়া? শুধু ডোপামিন আর অক্সিটোসিন হরমোনের খেলা?

যদি তাই হয়, তাহলে ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই। একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া ভালো বা মন্দ নয়, এটি শুধু ঘটে। কিন্তু আমরা সবাই জানি ভালোবাসা সত্যিকারের, মূল্যবান এবং পবিত্র। কেন? কারণ আমাদের সৃষ্টিকর্তা নিজেই ভালোবাসা এবং তিনি আমাদের মধ্যে ভালোবাসার ক্ষমতা দিয়েছেন।

woman in red and white long sleeve shirt standing on stage
woman in red and white long sleeve shirt standing on stage

পঞ্চম অধ্যায়: বিখ্যাত বিজ্ঞানীরা কী বলেছেন?

অনেকে মনে করেন বিজ্ঞান এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস পরস্পরবিরোধী। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের অনেকেই ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন।

আইজ্যাক নিউটন, যিনি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জনক এবং মাধ্যাকর্ষণ সূত্রের আবিষ্কারক, তিনি লিখেছেন: "এই অত্যন্ত সুন্দর সৌরজগৎ, গ্রহ এবং ধূমকেতু শুধুমাত্র একজন বুদ্ধিমান এবং শক্তিশালী সত্তার পরামর্শ এবং কর্তৃত্বে তৈরি হতে পারে।" (Principia Mathematica, General Scholium)

আলবার্ট আইনস্টাইন, যিনি বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানী, তিনি বলেছেন: "আমি প্রকৃতিতে এত বেশি সুষমতা দেখতে পাই যে আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য হই যে এর পেছনে একটি মহান বুদ্ধিমত্তা আছে।" তিনি আরও বলেছেন: "বিজ্ঞান ধর্ম ছাড়া খোঁড়া, ধর্ম বিজ্ঞান ছাড়া অন্ধ।" (Science, Philosophy and Religion: A Symposium, 1941)

ম্যাক্স প্ল্যাংক, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জনক এবং নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, তিনি বলেছেন: "বিজ্ঞানের দিকে যত গভীরভাবে তাকাই, ততই আমরা একটি বুদ্ধিমান সত্তার উপস্থিতি অনুভব করি।"

ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, তিনি বলেছেন: "বিজ্ঞানের পেয়ালা থেকে প্রথম চুমুক আপনাকে নাস্তিক বানাবে। কিন্তু পেয়ালার তলায় ঈশ্বর আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।"

রবার্ট জেস্ট্রো, নাসার গডার্ড ইনস্টিটিউট ফর স্পেস স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং একজন স্ব-ঘোষিত অজ্ঞেয়বাদী, তিনি তাঁর "God and the Astronomers" বইতে লিখেছেন: "বিজ্ঞানী যুক্তির পাহাড়ে উঠেছেন, শেষ চূড়ায় পৌঁছে দেখছেন একদল ধর্মতত্ত্ববিদ শতাব্দী ধরে সেখানে বসে আছেন।"

a man standing in front of a chalk board
a man standing in front of a chalk board

ষষ্ঠ অধ্যায়: নাস্তিকতার যৌক্তিক সমস্যা

এখন আসুন দেখি নাস্তিকতায় কী কী যৌক্তিক সমস্যা আছে।

প্রথম সমস্যা: শূন্য থেকে কিছু আসে না

এটি দর্শন ও বিজ্ঞানের সবচেয়ে মৌলিক নীতি। লাতিন ভাষায় বলা হয় "Ex nihilo nihil fit" অর্থাৎ "শূন্য থেকে কিছু আসে না।" যদি কোনো সৃষ্টিকর্তা না থাকেন, তাহলে মহাবিশ্ব শূন্য থেকে নিজে নিজে এসেছে। কিন্তু এটি বিজ্ঞানের মৌলিক নীতির বিরোধী।

দ্বিতীয় সমস্যা: নৈতিকতার ভিত্তি কোথায়?

যদি কোনো সৃষ্টিকর্তা না থাকেন, তাহলে ভালো-মন্দের কোনো চূড়ান্ত মানদণ্ড নেই। কারণ ভালো-মন্দ তখন শুধু মানুষের মতামত। একজন বলবেন "চুরি করা ভুল," আরেকজন বলবেন "জীবিকার জন্য চুরি ঠিক আছে।" কোনো চূড়ান্ত সত্য নেই।

কিন্তু আমরা সবাই জানি কিছু কিছু বিষয় সর্বজনীনভাবে ভুল। নিরপরাধ শিশুকে হত্যা করা সর্বজনীনভাবে ভুল। এটি কোনো সংস্কৃতিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু এই সর্বজনীন নৈতিকতা কোথা থেকে আসে? এটি আসে একজন সর্বজনীন নৈতিক আইনদাতা থেকে, অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা থেকে।

সি. এস. লুইস, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং একজন প্রাক্তন নাস্তিক যিনি পরে ঈসা মসীহে বিশ্বাসী হয়েছিলেন, তিনি তাঁর "Mere Christianity" বইতে লিখেছেন: "যদি কোনো নৈতিক আইন না থাকে, তাহলে নাৎসিদের মানবহত্যা ভুল বলার কোনো ভিত্তি নেই। কিন্তু আমরা সবাই জানি এটি ভুল ছিল। এই জানা প্রমাণ করে যে একটি নৈতিক আইন আছে এবং সেই আইনের পেছনে একজন আইনদাতা আছেন।"

তৃতীয় সমস্যা: জীবনের উদ্দেশ্য কী?

যদি কোনো সৃষ্টিকর্তা না থাকেন, তাহলে জীবনের কোনো উদ্দেশ্য নেই। আমরা শুধু রাসায়নিক পদার্থের একটি সংগ্রহ। আমরা জন্মাই, কিছুদিন বেঁচে থাকি, তারপর মরে যাই। ব্যস। শেষ। কোনো অর্থ নেই, কোনো উদ্দেশ্য নেই, কোনো আশা নেই।

কিন্তু মানুষ এটি মানতে পারে না। প্রতিটি মানুষ অনুভব করে যে তার জীবনের একটি উদ্দেশ্য আছে। প্রতিটি মানুষ অনুভব করে যে তার অস্তিত্ব অর্থবহ। এই অনুভূতি কোথা থেকে আসে? এটি আসে সৃষ্টিকর্তা থেকে, যিনি আমাদের একটি উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন।

চতুর্থ সমস্যা: সম্ভাবনার অসম্ভবতা

গণিতবিদ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রেড হয়েল একটি বিখ্যাত উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "একটি সাধারণ কোষ দুর্ঘটনাক্রমে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা হলো ১০ এর ঘাত ৪০,০০০ ভাগের ১ ভাগ। এটি এমন একটি সংখ্যা যে পুরো মহাবিশ্বের সব পরমাণুকে একত্রিত করলেও এই সম্ভাবনা বাস্তবায়ন হতো না।" তিনি আরও বলেছেন: "এটি একটি ভাগাড়ে ঘূর্ণিঝড় বয়ে গিয়ে একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান তৈরি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার চেয়েও কম।"

a close up of an open book on a table
a close up of an open book on a table

সপ্তম অধ্যায়: মানব ইতিহাসের সাক্ষ্য

পৃথিবীর ইতিহাসে কখনো কোনো সভ্যতা পাওয়া যায়নি যেখানে মানুষ কোনো না কোনোভাবে একটি উচ্চতর শক্তিতে বিশ্বাস করেনি।

প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্বাস করত। প্রাচীন গ্রিকরা বিশ্বাস করত। প্রাচীন রোমানরা বিশ্বাস করত। প্রাচীন চীনারা বিশ্বাস করত। প্রাচীন ভারতীয়রা বিশ্বাস করত। আফ্রিকার উপজাতিরা বিশ্বাস করত। আমেরিকার আদিবাসীরা বিশ্বাস করত। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাবোরিজিনালরা বিশ্বাস করত।

প্রতিটি সভ্যতা, প্রতিটি সংস্কৃতি, প্রতিটি যুগে মানুষ একটি উচ্চতর শক্তির অস্তিত্ব অনুভব করেছে। এটি কি দুর্ঘটনা? নাকি এটি মানুষের স্বভাবে গভীরভাবে গেঁথে দেওয়া একটি সত্য?

Pew Research Center এর ২০১২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে বিশ্বের ৮৪% মানুষ কোনো না কোনো ধর্মে বিশ্বাসী। এবং বাকি ১৬% এর মধ্যেও অনেকে "আধ্যাত্মিক কিন্তু ধর্মীয় নয়" হিসেবে পরিচয় দেন, অর্থাৎ তারাও কোনো উচ্চতর শক্তিতে বিশ্বাস করেন।

a woman holding a microphone in front of a group of people
a woman holding a microphone in front of a group of people

এই অধ্যায়টি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কারণ এখানে এমন কিছু মানুষের কথা আছে যারা জীবনের বেশিরভাগ সময় ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞান ও যুক্তি তাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে।

অ্যান্টনি ফ্লু: ৫০ বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত নাস্তিক দার্শনিক ছিলেন। ২০০৪ সালে ঘোষণা করলেন তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন। তাঁর "There Is a God: How the World's Most Notorious Atheist Changed His Mind" বইতে তিনি বলেছেন ডিএনএ'র জটিলতা এবং মহাবিশ্বের সূক্ষ্ম সমন্বয় তাঁকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে।

ফ্রান্সিস কলিন্স: মানব জিনোম প্রজেক্টের প্রধান। নাস্তিক ছিলেন। ডিএনএ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ঈশ্বরে বিশ্বাসী হয়েছেন। তাঁর "The Language of God" বইটি বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করেছে।

অ্যালান স্যান্ডেজ: আধুনিক পর্যবেক্ষণমূলক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক বলে পরিচিত। ৫০ বছর বয়সে নাস্তিক থেকে বিশ্বাসী হয়েছেন। তিনি বলেছেন: "আমি মনে করি মহাবিশ্বের অস্তিত্ব একটি রহস্য এবং এই রহস্যের একমাত্র ব্যাখ্যা হলো একজন সৃষ্টিকর্তা।"

সি. এস. লুইস: অক্সফোর্ডের প্রখ্যাত অধ্যাপক, নাস্তিক ছিলেন। যুক্তি ও দর্শনের মাধ্যমে ঈসা মসীহে বিশ্বাসী হয়েছেন। তাঁর "Mere Christianity," "The Problem of Pain," এবং "Surprised by Joy" বইগুলো বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

লী স্ট্রোবেল: শিকাগো ট্রিবিউনের আইনসংক্রান্ত সম্পাদক ছিলেন। নাস্তিক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী খ্রীষ্টান হওয়ার পর তিনি খ্রীষ্টধর্মকে মিথ্যা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন। দুই বছর তদন্ত করে তিনি নিজেই ঈসা মসীহে বিশ্বাসী হয়েছেন। তাঁর "The Case for Christ" বইটি বিশ্বব্যাপী বেস্টসেলার।

a woman holding a microphone in front of a group of people
a woman holding a microphone in front of a group of people

অষ্টম অধ্যায়: যে বিজ্ঞানীরা নাস্তিক থেকে আস্তিক হয়েছেন

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করা কেন প্রয়োজন?

জীবনের উদ্দেশ্য পাওয়ার জন্য: যদি কোনো সৃষ্টিকর্তা না থাকেন, তাহলে জীবন অর্থহীন। আমরা শুধু জন্মাই এবং মরি। কিন্তু যদি সৃষ্টিকর্তা থাকেন, তাহলে আমাদের জীবনের একটি উদ্দেশ্য আছে। তিনি আমাদের কারণে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের ভালোবাসেন। তিনি আমাদের জন্য একটি পরিকল্পনা রেখেছেন।

নৈতিক ভিত্তি পাওয়ার জন্য: সৃষ্টিকর্তা ছাড়া ভালো-মন্দের কোনো চূড়ান্ত মানদণ্ড নেই। সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস আমাদের জীবনে নৈতিকতার একটি শক্ত ভিত্তি দেয়।

মৃত্যুভয় থেকে মুক্তির জন্য: প্রতিটি মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায়। কিন্তু যদি সৃষ্টিকর্তা থাকেন এবং মৃত্যুর পরে জীবন থাকে, তাহলে মৃত্যু শেষ নয়, শুরু। এই বিশ্বাস মানুষকে মৃত্যুভয় থেকে মুক্তি দেয়।

কষ্টের মধ্যে আশা পাওয়ার জন্য: জীবনে কষ্ট আসে, দুঃখ আসে, ব্যর্থতা আসে। যদি কোনো সৃষ্টিকর্তা না থাকেন, তাহলে কষ্ট অর্থহীন। কিন্তু যদি সৃষ্টিকর্তা থাকেন, তাহলে কষ্টের মধ্যেও একটি উদ্দেশ্য আছে এবং শেষ পর্যন্ত সব ঠিক হবে। এই আশা মানুষকে কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে।

একাকীত্ব থেকে মুক্তির জন্য: আধুনিক পৃথিবীতে মানুষ এত বেশি একা অনুভব করে যে একাকীত্বকে এখন "মহামারী" বলা হচ্ছে। কিন্তু যদি সৃষ্টিকর্তা থাকেন, তাহলে আপনি কখনো একা নন। তিনি সবসময় আপনার সাথে আছেন।

a woman holding a microphone in front of a group of people
a woman holding a microphone in front of a group of people

নবম অধ্যায়: সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাইবেল বলে, যোহন ১:১৪ এ: "কালাম মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করলেন এবং আমাদের মাঝে বসবাস করলেন।"

সৃষ্টিকর্তা শুধু আছেন তা নয়, তিনি আমাদের কাছে এসেছেন ঈসা মসীহের মাধ্যমে। তিনি আমাদের ভালোবাসেন। তিনি আমাদের জানতে চান। তিনি আমাদের সাথে সম্পর্ক রাখতে চান।

ঈসা মসীহ বলেছেন: "আমিই পথ, সত্য ও জীবন।" (যোহন ১৪:৬)

তিনি আরও বলেছেন: "যে আমাকে দেখেছে সে পিতাকে (সৃষ্টিকর্তাকে) দেখেছে।" (যোহন ১৪:৯)

সৃষ্টিকর্তা শুধু আছেন তা বিশ্বাস করা যথেষ্ট নয়। তাঁকে জানতে হবে। তাঁর কাছে যেতে হবে। এবং তাঁর কাছে যাওয়ার পথ হলেন ঈসা মসীহ, যিনি আল্লাহর কালেমা এবং আল্লাহর রূহ।

a woman holding a microphone in front of a group of people
a woman holding a microphone in front of a group of people

দশম অধ্যায়: তাহলে সেই সৃষ্টিকর্তা কে?

আমরা এতক্ষণ দেখলাম যে সৃষ্টিকর্তা আছেন এর পক্ষে অসংখ্য যুক্তি ও প্রমাণ আছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো: সেই সৃষ্টিকর্তা কে? তিনি কি নিরাকার কোনো শক্তি? নাকি তিনি ব্যক্তিগত সত্তা যিনি আমাদের ভালোবাসেন, আমাদের সাথে কথা বলতে চান?

কোরআন বলে আল্লাহ আছেন এবং তিনি রাহমানুর রাহীম, দয়ালু ও করুণাময়।

বাইবেল বলে ঈশ্বর আছেন এবং তিনি ভালোবাসা।

এবং সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই সৃষ্টিকর্তা শুধু দূরে বসে থাকেননি। তিনি মানুষের কাছে এসেছেন।

কোরআন বলে, সূরা নিসা ৪:১৭১ এ: ঈসা মসীহ হলেন "আল্লাহর কালেমা এবং আল্লাহর রূহ।"

greeting card beside a red ribbon and tealight candle
greeting card beside a red ribbon and tealight candle

শেষ কথা: আপনার জন্য একটি আমন্ত্রণ

প্রিয় পাঠক, আজকে আমরা দেখলাম:

মহাবিশ্বের শুরু আছে এবং সেই শুরুর পেছনে একজন কারণকর্তা আছেন। মহাবিশ্বের সূক্ষ্ম সমন্বয় প্রমাণ করে যে একজন বুদ্ধিমান পরিকল্পনাকারী আছেন। ডিএনএ'র অবিশ্বাস্য জটিলতা প্রমাণ করে যে একজন মহাজ্ঞানী স্রষ্টা আছেন। মানুষের বিবেক, সৌন্দর্যবোধ এবং ভালোবাসা প্রমাণ করে যে আমাদের সৃষ্টিকর্তা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং ভালোবাসাময়। ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানীরা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেছেন। নাস্তিকতায় গুরুতর যৌক্তিক সমস্যা আছে। এবং সবচেয়ে বড় কথা, সেই সৃষ্টিকর্তা আমাদের কাছে এসেছেন ঈসা মসীহের মাধ্যমে।

আপনি কি আজ সেই সৃষ্টিকর্তাকে জানতে চান?

আমাদের ওয়েবসাইটে আরও অনেক লেখা আছে যেগুলো আপনাকে সৃষ্টিকর্তাকে আরও গভীরভাবে জানতে সাহায্য করবে। পড়ুন, জানুন, এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিন।

a man in a suit is doing a handstand on the floor
a man in a suit is doing a handstand on the floor

একটি প্রার্থনা

হে সৃষ্টিকর্তা, যদি তুমি সত্যিই থাকো, তাহলে আজ আমাকে জানিয়ে দাও। আমার হৃদয়ে তোমার উপস্থিতি অনুভব করাও। আমি সত্য জানতে চাই। আমি তোমাকে জানতে চাই। আমাকে পথ দেখাও। আমীন।

এই লেখাটি শেয়ার করুন। কারণ হয়তো কেউ আপনার মতোই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন এবং আপনার একটি শেয়ার তার জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

ঈশ্বর কি সত্যিই আছেন?

এই অংশটি ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে চলে আসা আদি ও অনন্ত প্রশ্নের গভীরে আলোকপাত করে।

কেন ঈশ্বরকে বিশ্বাস করবেন?

ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস জীবনের অনিশ্চয়তার মাঝে অর্থ এবং মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে প্রমাণ কী?

অনেকে জীবনের জটিল গঠন এবং মহাবিশ্বের নিখুঁত শৃঙ্খলাকে কোনো এক উচ্চতর শক্তির নিদর্শন হিসেবে মনে করেন।

বিশ্বাস ও যুক্তি কি একসাথে চলতে পারে?

হ্যাঁ, গভীর সত্যগুলো অনুধাবনের ক্ষেত্রে অনেক সময় বিশ্বাস ও যুক্তি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

সংশয় কি বিশ্বাসের কোন অংশ?

সময়ের সাথে সাথে সংশয় বা সন্দেহ একজন মানুষকে আরও দৃঢ় এবং চিন্তাশীল বিশ্বাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এই অংশটি কীভাবে এসব প্রশ্নের সমাধানে সাহায্য করবে?

এটি অত্যন্ত চিন্তাশীল ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বাস ও অস্তিত্ব নিয়ে আপনার নিজস্ব ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করবে।

A serene sunrise over a quiet mountain, symbolizing contemplation and the search for meaning.
A serene sunrise over a quiet mountain, symbolizing contemplation and the search for meaning.

ঈশ্বরের অস্তিত্ব কি আছে?