আম্বিয়া কেরামগণের গোপন আমানত: আদম (আ.) থেকে শেষ জামানা পর্যন্ত বিভিন্ন নবীগণ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ইতিহাস
১. আদম (আ.) ও মা হাওয়া: সৃষ্টির প্রথম ওয়াদা
জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আসার সময় আল্লাহ আদম ও হাওয়াকে কেবল সান্ত্বনাই দেননি, বরং একটি মহা-প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নারীর গর্ভ থেকে এমন এক সন্তান আসবেন যিনি শয়তানের ক্ষমতাকে চিরতরে চূর্ণ করবেন। আপনি কি জানেন, কেন সেই বিশেষ বংশধরকে "পুরুষের" নয়, বরং "নারীর বংশধর" বলা হয়েছে? এর পেছনে কুমারীর গর্ভের কি কোন রহস্য লুকিয়ে ছিল?
ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু মহামানব ও নবীগণ এসেছেন যাঁদের আমরা সবাই শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত যত নবী-রাসূল এই পৃথিবীতে এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের জীবনের সবচেয়ে বড় মিশন কী ছিল? কেন তাঁদের প্রত্যেকের কিতাবে এবং জীবনে একজন "বিশেষ ব্যক্তিত্বের" আগমনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? আজ আমরা উন্মোচন করব সেই ১২টি বিশেষ চরিত্রকে, যাঁদের জীবনের প্রতিটি মোড় আসলে মানবজাতির একমাত্র নাজাতের পথকে নির্দেশ করছে।
২. হাবিল (আ.): রক্তের বিনিময়ে কবুল হওয়া ইবাদত
হাবিল ও কাবিলের লড়াই ছিল ইতিহাসের প্রথম লড়াই। কিন্তু কেন আল্লাহ কেবল হাবিলের কুরবানিই কবুল করলেন? হাবিল যে নিষ্পাপ মেষের রক্ত উৎসর্গ করেছিলেন, তা কি ভবিষ্যতের কোনো এক "পবিত্র রক্তপাতের" দিকে ইশারা করছিল যা সারা বিশ্বের মানুষের গুনাহ ধুয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে?


৩. নূহ (আ.): মহাপ্লাবনের বুক চিরে বাঁচার একমাত্র পথ
নূহের প্লাবন ছিল আল্লাহর গজব। সেই উত্তাল তরঙ্গের মাঝে একটি কাঠের জাহাজ কেন মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল? কখনো কি এই প্রশ্নটি করেছেন নিজেকে? আধ্যাত্মিক গবেষকরা মনে করেন, সেই জাহাজটি আসলে একটি ব্যক্তির প্রতীক। যাঁর ভেতরে প্রবেশ করলে মানুষ আজাব থেকে মুক্তি পায়। কে সেই ব্যক্তি, যাঁর আশ্রয় নূহের জাহাজের চেয়েও বড়?
৪. ইব্রাহিম (আ.): জবেহিল আজিম বা মহান কুরবানি
আল্লাহ ইব্রাহিমকে তাঁর প্রিয় পুত্রকে কুরবানি করার হুকুম দিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আসমান থেকে একটি জান্নাতি পশু পাঠিয়ে সেই পুত্রকে রক্ষা করলেন। কোরআনে একে বলা হয়েছে "জবেহিল আজিম" বা বড় কুরবানি। একটি পশু কি একজন মানুষের চেয়ে বড় হতে পারে? নাকি সেই পশুটি আসলে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এক ত্যাগের আগাম সংকেত ছিল?
৫. ইউসুফ (আ.): বিশ্বাসঘাতকতা থেকে সিংহাসন
নিজের ভাইদের দ্বারা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কৃতদাস হিসেবে বিক্রি হওয়া এবং পরে পুরো জাতির রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হওয়া, ইউসুফের জীবনের এই চড়াই-উতরাই কি আপনাকে অন্য কারো কথা মনে করিয়ে দেয়? যাকে নিজের মানুষরাই প্রত্যাখ্যান করেছিল কিন্তু তিনি হয়ে উঠেছিলেন দুনিয়ার নাজাতদাতা। কেন ইউসুফের জীবনী আমাদের মহান মসীহের জীবনের একটি ছায়ামাত্র?


৬. মূসা (আ.): নিস্তারপর্ব ও মেষশাবকের রক্ত
মূসা যখন বনী ইসরাইলকে ফেরাউনের দাসত্ব থেকে মুক্ত করলেন, তখন একটি বিশেষ রাত ছিল যখন দরজার কপাটে রক্ত লাগিয়ে মানুষ আজাব থেকে মুক্তি পেয়েছিল। একে বলা হয় 'পেসাহ' বা নিস্তারপর্ব। আপনি কি জানেন, সেই মেষশাবকের রক্ত আসলে কার পবিত্র রক্তের প্রতীক ছিল, যা মানুষকে শয়তানের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার শক্তি রাখে?
পরবর্তী পৃষ্ঠা...
২
"যে ব্যক্তি সহজে রাগ করে না, সে বীরের চেয়েও মহান; যে নিজের মনকে জয় করে, সে শহর জয়ী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।"
--মেসাল ১৬:৩২