কে সেই "মহান কুরবানি"?

নাজাতের রহস্য উন্মোচন

a person's hand reaching up into the air
a person's hand reaching up into the air
Graffiti in farsi decorates a brick wall.
Graffiti in farsi decorates a brick wall.
man in black and red shirt reading book
man in black and red shirt reading book

যাকিয়্যা

কালিমাতুল্লাহ

রূহুল্লাহ

ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই পাহাড়ের ওপরে যে কুরবানিটি শুরু হয়েছিল কিন্তু সম্পন্ন হয়নি, তা কি কেবল একটি পশু জবাইয়ের মাধ্যমেই শেষ হয়ে গিয়েছিল? আল্লাহ কেন পশুর কুরবানিকে "আজিম" বা মহান বললেন? সত্যটি হলো, সেই পশুটি ছিল একটি 'আমানত' এবং একটি 'ভবিষ্যদ্বাণী'। আল্লাহ ইব্রাহিমকে সেদিন দেখিয়েছিলেন যে, মানুষের নাজাত বা মুক্তির জন্য আল্লাহ নিজেই একদিন তাঁর পবিত্র কুরবানি পাঠাবেন।

এখন প্রশ্ন হলো, কে সেই পবিত্র সত্তা যিনি আপনার এবং আমার সমস্ত গুনাহর 'কাফফারা' বা মূল্য হতে পারেন?

পবিত্র কোরআন এবং পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ কেবল একজনের দিকেই ইশারা করছে। আসুন তাঁর অবিশ্বাস্য তিনটি পরিচয় আমরা দেখি:

প্রথমত: তিনি নিষ্পাপ (যাকিয়্যা)

কোরআনের সূরা মারিয়াম ১৯:১৯ আয়াতে ফেরেশতা যখন মারিয়ামের কাছে এলেন, তিনি ঈসা মসীহ সম্পর্কে বললেন: (إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا) বাংলা উচ্চারন: "ইন্নামা আনা রাসূলু রব্বিকি লি-আহাবা লাকি গুলামান যাকিয়্যা"—অর্থাৎ, "আমি তোমার রবের প্রেরিত দূত, তোমাকে এক পবিত্র (নিষ্পাপ) পুত্র দান করার জন্য এসেছি।" পুরো কোরআনে ঈসা মসীহ ছাড়া আর কোনো নবীকে সরাসরি 'নিষ্পাপ' বা 'পবিত্র' বলা হয়নি। কেন? কারণ যাঁর রক্তে গুনাহর দাগ আছে, তিনি কি অন্য কারো গুনাহর মূল্য দিতে পারেন? কখনোই না। ঈসা মসীহ কোনো পুরুষের বীজ ছাড়া সরাসরি আল্লাহর রূহ থেকে জন্মেছিলেন, তাই তাঁর মধ্যে মানুষের জন্মগত কোনো গুনাহ ছিল না।

দ্বিতীয়ত: তিনি আল্লাহর কালেমা ও রূহ (কালিমাতুল্লাহ ও রূহুল্লাহ)

সূরা নিসা ৪:১৭১ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন: "মসীহ ঈসা ইবনে মারিয়াম তো কেবল আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর কালেমা, যা তিনি মারিয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ।" এই উপাধি কি আপনার মাথা ঘুরিয়ে দেয় না? কোনো মাটির তৈরি মানুষ কি আল্লাহর 'রূহ' হতে পারে? কোনো সৃষ্টি কি আল্লাহর নিজের 'কালেমা' বা কথা হতে পারে? ঈসা মসীহ কোনো সাধারণ মানুষ নন; তিনি আল্লাহর সেই চিরন্তন বাণী বা কালেমা যা মানুষের নাজাতের জন্য পৃথিবীতে এসেছিলেন।

নাজাতের রহস্য উন্মোচন

কে সেই "মহান কুরবানি"?

man in brown jacket standing on green grass field with white sheep during daytime

তৃতীয়ত: তিনি আল্লাহর মেষশাবক

ঈসা মসীহ যখন তাঁর কাজ শুরু করলেন, তখন হযরত ইয়াহিয়া (আ.) বা নবী যোহন তাঁকে দেখে চিৎকার করে বলেছিলেন: "ঐ দেখো আল্লাহর মেষশাবক, যিনি জগতের পাপ বহন করে নিয়ে যান!" (ইঞ্জিল শরীফ, ইউহোন্না ১:২৯)। ইয়াহিয়া (আ.) কেন তাঁকে মেষশাবক বললেন? কারণ তিনি জানতেন, ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই অসমাপ্ত কুরবানি পূর্ণ করতে আল্লাহ নিজের 'কালেমা'কে পাঠিয়েছেন।

এখন নিজেকে সবকিছু বিবেচনায় রেখে এই তীক্ষ্ণ প্রশ্নটি করুন—ঈসা মসীহ কি কেবল একজন নবী ছিলেন?

যদি তিনি কেবল একজন নবী হতেন, তবে কেন তাঁর জন্ম এত অলৌকিক? কেন তাঁর উপাধি এত ঐশ্বরিক? কেন তিনি ছাড়া আর কোনো নবী আজ আসমানে জীবিত নেই?

আসল সত্যটি হলো, ঈসা মসীহ ক্রুশের ওপর নিজের পবিত্র রক্ত ঢেলে দিয়ে ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই 'জবেহিল আজিম' বা মহান কুরবানিকে সম্পন্ন করেছেন। তিনি আপনার গুনাহর সেই 'ড্রেনের পানির' নোংরা ফোঁটাটি নিজের রক্ত দিয়ে ধুয়ে দিয়ে আপনার আমলের বালতিকে আবার পবিত্র করেছেন। আপনার পক্ষ থেকে জাহান্নামের যে শাস্তি পাওয়ার কথা ছিল, সেই শাস্তি তিনি নিজের শরীরের ওপর তুলে নিয়েছেন।

নাজাত কোনো 'হয়তো' বা 'যদি'র বিষয় নয়। নাজাত হলো আল্লাহর দেওয়া এক বিনামূল্যে উপহার, যা কেবল ঈসা মসীহের এই মহান ত্যাগের ওপর ঈমান আনলে পাওয়া যায়। আপনার হাজারো অসম্পূর্ণ আমল আপনাকে যে নিশ্চয়তা দিতে পারেনি, ঈসা মসীহের এক ফোঁটা রক্ত আপনাকে সেই ১০০% গ্যারান্টি দিতে পারে।

আপনি কি আজও নিজের পঁচে যাওয়া আমলের ওপর ভরসা করে কবরের আজাবের ভয় নিয়ে বাঁচবেন? নাকি আল্লাহর সেই 'পবিত্র রূহ' এবং 'কালেমা'র আশ্রয়ে এসে জান্নাতের নিশ্চিত চাবিকাঠি গ্রহণ করবেন? সিদ্ধান্ত আপনার, কারণ মৃত্যুর পর আর কোনো সুযোগ থাকবে না।

প্রিয় পাঠক /পাঠিকা,
আমি জানি না, আপনার হৃদয়ে এই মুহুর্তে মহান আল্লাহ্ কি বলছেন; কিন্তু আমরা আপনার জন্য এই দোয়া করি যেন তিনি আপনাকে সঠিক জ্ঞান ও সৎ পরামর্শ দিয়ে সর্বদা পরিচালনা করেন। একই সাথে আপনাকে এটাও জ্ঞাত করি যে, সরাসরি আল্লাহ্ আপনাকে তাঁর কাছে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন এবং সেটি ”হবে, তবে, কিন্তু ইত্যাদির মাধ্যমে নয়; ১০০% শতভাগ নাজাতের গ্যারেন্টি দিয়েই তিনি আপনাকে আহব্বান করছেন। আর সেই আমন্ত্রণটা কি তা নিচে ক্লিক করে জেনে আসুন।

বিস্তারিত জানতে আজই যোগাযোগ করুন

প্রিয় বন্ধু, এই যাত্রা পথে যেতে যেতে হয়তো অনেক প্রশ্ন বা কথা থাকতে পারে আপনার, অথবা আরো নতুন কিছু জানার আগ্রহ সৃষ্টি হতেই পারে। যদি এই ধরনের আরো কোন কথা বা কোন নির্দিষ্ট প্রশ্ন থাকে, তবে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা যথাসাধ্য আপনার সকল অজানা বিষয় বা প্রশ্নের সহজ ও সততার সাথে সকল উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো। মহান আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে সেই পর্যন্ত হেফাজতে রাখুন।

Ias-al-Masaya-only-can -save-us-from-hell
Ias-al-Masaya-only-can -save-us-from-hell